কুমিল্লার
বিবিরবাজার
স্থলবন্দরে দিন
দিন
বাড়ছে রপ্তানি। এ বন্দর দিয়ে বছরে রপ্তানি হচ্ছে প্রায় ৫০ কোটি টাকার পণ্য। কিন্তু এই বন্দরে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সৃষ্টি হয়েছে চরম জনদুর্ভোগ। কুমিল্লা মহানগরী থেকে ৮ কিলোমিটার সড়কের ৬ কিলোমিটারের অবস্থা একেবারেই নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতে এ রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ হওয়ায় বন্ধ থাকে স্থলবন্দর। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঐ সড়কের কোথাও পিচের লেশ মাত্র নেই। সড়কের দুর্ভোগের কথা বলতে গিয়ে স্থানীয় তেতুইয়ারা গ্রামের কলেজ শিক্ষক কাজী মোহাম্মদ ফারুক জানান, সড়কের এমন নাজুক অবস্থায় গাড়ি চলাচল দূরে থাক, পায়ে হাঁটাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বন্দরের ব্যবসায়ী কাজী তুহিন জানান, সড়কের দীর্ঘদিনের এ বেহাল অবস্থার ফলে মালিকরা ট্রাক দিতে চান না, দিলেও অধিক ভাড়া গুনতে হয়। স্থলবন্দরের ইন্সপেক্টর মো. কলিমউল্লাহ জানান, সড়কের এ বেহাল অবস্থার কারণে ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। সড়কের অবস্থা ভালো হলে পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি লোকজনের বহির্গমনও বৃদ্ধি পেতো। স্থানীয় জগন্নাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুন জানান, স্থানীয় এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বিবিরবাজার স্থলবন্দর সড়কটি উন্নয়নের ২৯ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করলেও প্রায় দেড় বছর আগে শুরু হওয়া প্রকল্প অর্থ সংকটের কারণে বন্ধ আছে। এদিকে সড়কটির বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে কুমিল্লা সড়কও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুর রহিম জানান, ঈদের পরে সড়কটির সংস্কারের কাজ পুরোদমে শুরু করা হবে। স্থলবন্দরের পরিদর্শক মোহাম্মদ কলিমউল্লাহ জানান, এই বন্দর দিয়ে আমদানি খুব একটা হয় না, তবে পণ্য রপ্তানি দিন দিন আশানুরূপ বাড়ছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে মোট ৪৭ কোটি ৯৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গতবছরে ছিল ৪০ কোটি ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। রপ্তানিকৃত পণ্যগুলো হচ্ছে: পাথর, বালি, সিমেন্ট, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী। মাঝে মাঝে গুঁড়ো সাবানও রপ্তানি হয়।